★••• আলোকরশ্মি •••★ ©=== মানসূর আহমাদ

মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘নাসা’ থেকে ডাক পেলো মেয়েটি। নাম সোনিথা উইলিয়ামস। সোনিথাদের বাসা নিউইয়র্ক শহরে। নাসা থেকে ডাক পাওয়ার পর সে নিয়মিত অফিস করতে লাগলো। তার কর্ম দক্ষতায় সবাই মুগ্ধ। তার কাজে গতি আছে। যে কাজেই তার হাত লাগছে, সে কাজেই উত্তরোত্তর সফলতা আসছে। তার প্রতি সবাই খুশি। বিনিময়ে কদিন পরপরই তার প্রমোশন হচ্ছে।
নাসা থেকে কিছুদিন পরপর কোনো একটা নভোচারী দল মহাকাশ পর্যবেক্ষণে যায়। আগামী সপ্তাহে একটি পর্যবেক্ষক টিম মহাকাশে যাবে। যাত্রার যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু দিনক্ষণ আসার পালা। ওই টিমের ক্যাপ্টেন নির্ধারণ করা হয়েছে সোনিথা উইলিয়ামসকে। তার সাথে আরও চারজন বিজ্ঞানী মহাকাশ পর্যবেক্ষণে যাবে।
নির্ধারিত দিন। পাঁচজন বিজ্ঞানী মহাকাশ যানে চড়লেন। সোনিথা উইলিয়ামস ক্যাপ্টেন। তার চার সঙ্গী হলেন- উইলিয়াম ব্যরন, জন মূর, ড্যাভিড কানজানী এবং ডব্লিউ সিনাম। পরিচালক ও তার সঙ্গীদের উদ্দেশে সোনিথা এবং অন্য চারজন হাত নাড়লেন। মহাকাশ যানের ইঞ্জিন চালু হলো। আকাশে ভেসে চললো পাঁচ সদস্যের নভোচারী টিম।
হাজার হাজার মাইল বেগে ছুটে চলেছে মহাকাশ যান। ভেতরে পাঁচটি প্রাণী উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। দেখতে দেখতে তারা পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে চলে এসেছে। তারা নিজেদের অবস্থান ঠিক করলো। ক্যামেরা, টেলিস্কোপ এবং যাবতীয় যন্ত্রপাতি পৃথিবীর দিকে তাক করলো।
‘আশ্চর্য! এ কী দেখছি আমরা!’ – একজন বললো। সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার কেনো? চোখে যন্ত্রপাতি লাগিয়ে সোনিথা উইলিয়ামস দেখলো- সারা পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে। শুধুমাত্র দুটি জায়গায় ছোট তারার মতো মিটিমিটি করে পাশাপাশি দুটি আলো জ্বলছে। আশ্চর্য!
তারা পৃথিবীর দিকে আরও সরে এলো। ওই দুটি আলো তাদের কাছে আরো স্পষ্ট হলো। তাদের সমস্ত রিপোর্ট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাথে সাথেই নাসার সদর দপ্তরে চলে যাচ্ছিলো। বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করলো। চিন্তা-ভাবনা ও তথ্য-তালাশ করে নিশ্চিত হলো যে, ওই দুটি স্থান হলো- মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী!
সোনিথা উইলিয়ামসের হার্টবিট বেড়ে গেলো। কী আশ্চর্য! সারা পৃথিবী অন্ধকার কেনো? আর ওই দুটি জায়গায়ই বা আলো জ্বলছে কেনো? ওই আলোর উৎস কী? প্রশ্নের পর প্রশ্ন এসে তার মাথা খারাপ করে দিচ্ছিলো। সে বুঝতে পারলো- এই কাণ্ডটি ঘটেছে শুধুমাত্র ধর্মের কল্যাণেই। কাজেই ওই ধর্ম অবশ্যই সঠিক এবং ঈশ্বর কর্তৃক মনোনিত, যা উক্ত দুই স্থানে রয়েছে। সে প্রতিজ্ঞা করলো- যদি জীবিত অবস্থায় পৃথিবীর বুকে ফিরে যেতে পারি, তাহলে ওই ধর্ম গ্রহণ করে নেবো, যা রয়েছে মক্কা মদীনায়।
তাদের মিশন সফল হলো। আমেরিকায় ফিরে আসলো তারা। দেশে আসার পর সোনিথা উইলিয়ামসের মনে সেই প্রতিজ্ঞার কথা ভেসে উঠতে লাগলো। সে চিন্তা ভাবনা শুরু করলো। শেষপর্যন্ত বিবেকের কাছে খৃস্টবাদ পরাজিত হলো। জয় হলো ইসলামের।
ইসলাম গ্রহণ করলেন সোনিথা উইলিয়ামস।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s